মাথা কোনো কাজ করে না

মাথা কোনো কাজ করে না

-মাথা কোনো কাজ করছে না । থেমে গেছে একদম । ভাবতে পারছিনা কিছু । হ্যাং হয়ে গেল বোধ হয় । ঘুমিয়ে পড়লে ভালো হবে কি ? জানি না । ভাবতে পারছি না । মনে হচ্ছে গুলিয়ে যাচ্ছে সব । কিংবা গুলোচ্ছে না কিছু । স্থির আছে । কিংবা স্থির নেই । অথবা কিছুই হচ্ছে না। উফ! একটা চরম অস্থিরতা । নাকি স্থিরতা ? ভাবতে পারছি না । মাথা কাজ করছে না । সরকারী সেনা সংস্থা থেকে বেসরকারী সেনা সংগঠন বেশি ? নাকি কম ? উফ জানি না । জানতে ইচ্ছে করছে না ।
-প্লীজ কুয়াইট ইয়ার । কুল ডাউন । মাথা ঠান্ডা কর ।  স্লো ব্রিথিং নে । আস্তে আস্তে । ধীরে ধীরে । আর মুসলিমরাই কেন সন্ত্রাসবাদী হয় ভাবা ছাড় । জাস্ট কুল ডাউন । চোখ বন্ধ কর । চোখ বন্ধ করলেই মাথায় ভাবনা আসতে পারে আলেপ্পো পৃথিবীর মানচিত্রে আছে কি নেই । কিন্তু সে সব ভেবে লাভ নেই । বরং ফিল করার চেষ্টা কর তোর শ্বাস বায়ু নাসারন্ধ্র, ট্রাকিয়া, ল্যারিংস পেরিয়ে পেটে গেল কিনা । ফিল কর ।
- ফিলই তো করতে পারছি না একদম । তুই আছিস কিংবা নেই বুঝতে পারছি না । কিংবা থাকলে কি জন্য আছিস ? নিছকই বন্ধুত্বের টানে নাকি মহাকর্ষ বল তোকে আটকে রেখেছে ? উফ ! কি যে হচ্ছে জানি না । ভাবতেই পারছি না কিচ্ছু । কি যে হবে জানি না । এখন কিছুই হচ্ছে না । হেজিমোনি হেজিয়ে যাচ্ছে । বাংলদেশের টিভি চ্যানেলের সংখ্যালঘু সংবাদ পাঠিকা সংবাদ পাঠের আগে কেন সালাম নেয় বুঝতে পারছি না । ভারতেই সংঘ্যালঘু সংবাদ  পাঠকই বা কেন নমস্কার বলবে বলতো ?
-বাড়াবাড়ি হয়ে যাচ্ছে কিন্তু, পুচু । সিন ক্রিয়েট করিস না একদম ।
-আমি তো করছি না  কিছু । কিন্তু কারা যে করছে বুঝতে পারছি না ।
- তোর পায়ে পড়ি পুচু, বোঝার দরকার নেই । তুই বরং অন্য কিছু ভাব । এই ভাব কলার খোসা হলুদ হয় কেন ?
- প্রকৃতির জন্য । এতে ভাবার কি আছে ?
- ভাবার কিচ্ছু যে নেই সেটাই তো তোকে বলছি ।
- ভাবছিও না তো কিছু । কিছুই ভাবতে পারছি না । একটা মেয়ে একটা ছেলের মত রাত দুটোই খোলা ফ্লাইওভারের ওপর কেন দাঁড়াতে পারবে না, আমি তো ভাবতেই পারছি না ।
- প্লীজ পুচু সোনা আমার চুপ কর । ভাবতে পারছিস না যখন ভাবিস না । মাথা ঠান্ডা কর । একটু পরেই তো স্টেজে ডাকবে ।
-যাব । গিয়ে বলব জীবনের অচলায়তন আসলে কে । কিংবা কিছুই বলব না । চুপ থাকবে আমার মাথা । যেমন আর সবাই রাখে ।
- হ্যা চুপ রাখতে ইচ্ছে রাখবি । প্লীজ উল্টো পাল্টা বলবি না । ওকে ?
- ওকে, বলব না ।

শিখা দিঘির কালো জল, হরেক রকম পাখি

"পদ্মা দিঘির কালো জল হরেক রকম ফুল/ হাঁটুর নিচে ঝুলছে খুখুর গোছা ভরা চুল..." আমার যে বন্ধুনীটি আমাদের সাথে গিয়ে ছিল বেড়াতে তার অবশ্য ঘাড় অবধি চুল। সেই বন্ধুনীর সাথে আরো দুই বন্ধু মিলে আমরা বেড়াতে গেছিলাম শিখা ঝিল। ঝিল বলতে জল, জল বলতে ফুল এমনটাই হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু এ ঝিলের ফুল তেমন মন কাড়ে না। মন কাড়ে এ ঝিলে বেড়াতে আসা পরিযায়ী পাখিরা। দেশ বিদেশ থেকে ঝিল ভ্রমনে আসে পাখিরা। মূলত শীত কালে ভিন দেশ থেকে এদেশে পরিভ্রমন করেন তারা। এমনিতে শিখা ঝিল বাংলার আর পাঁচটা নিচু জমি (Low Land) এর মতই দেখতে। ফারাক শুধু আশপাশের বৃক্ষ সৃজনের। দীঘির চারপাশের ঘন বনরাজির জন্য জড় হয় বিদেশ বিভূঁইয়ের পাখি। আমরা যারা মানুষ, আমরা যারা অন্যের 

ওয়ানসিয়ানার জন্য হটাৎ

ওয়ানসিয়ানার জন্য হটাৎ



একদিন গোলাপি একটা শাড়ি দেখে, তোমাকে বেশ মনে পড়েছে ওয়ানসিয়ানা। তোমার ফুলকো লুচির মতো ঘিয়ে-রঙের শরীরে এ শাড়ি কেমন মানাবে আমি কি আর জানি, বলো? তবু তোমাকে ছাড়া আর কাউকে মনে পড়ে না একদম।

রোদের সাথে কি মেশালে জন্ম নেবে চোখ ধাঁধানো সুপারনোভা, আমি জানি না। শুধু জানি তোমার চোখের দিকে তাকিয়ে থাকতে পারি না এক মুহূর্ত। চোখ যেন ঝলসে যায়, চোখে এসে বসে যেন শত সূর্যের আলোকচ্ছটা।

সেবার মালবাজারে, হটাৎ। অন্য অবতারে তুমি, ওয়ানসিয়ানা। আমি চমকে উঠেছি বেশ। তুমিই না, সেই মেয়ে? যাকে পাওয়ার জন্য এগারো হাজার বছর কেঁদে কেটে ঘুরেছি ফিরেছি আমি। তুমিও তাই। কেঁদেছ। ফিরেছ।

আমার ঘাড়ের কাছে যে তিল আছে, তার তর্জমা করতে বস তুমি। আমিও খুঁজি তোমার বুকের তিলে নিজের আয়ু। অথচ, হটাৎ ফারাক্কায় টারবাইনে তুমি ঘুরছ। আমি অবাক, চমকে গেছি।

তোমার আঁচলে, ওয়ানসিয়ানা, আমাদের পোয়াতি গল্পরা বার্ধক্য পোহায়। অথচ, স্কুলছুট মিচকে হওয়ায় হটাৎ, তোমাকে দেখে ভয় পেয়েছি।

তুমিই না সে প্রথম শিশির, চুড়িদার কেনার টাকা সরিয়ে স্বপ্ন জমাও? হাতের রেখার গ্রহের ক্রসে তোমায় দেখে হটাৎ চমকে গেছি, ওয়ানসিয়ানা।

বেসলেস রিলিজিওন!

ঘুমিয়ে আছে শিশুর পিতা সব শিশুরই অন্তরে আর সেই শিশু পিতা হলেই ধরা হই সে বড় হয়েছে ।আর বড় হলেই দাদাগিরি করার একটা বোনাস পয়েন্ট যুক্ত হয় সেই মানুষটির সাথে। 'নট লাইক দ্যাট। না বাবা এটা ওরকম ভাবে নয় এই রকম ভাবে।'  অথচ
ছোট বেলায় সেই মানুষটিও ওই কাজটা করেছিল সেই ভুল ভাবেইকিন্তু এখন বড় হয়ে ছোটদের সেই ভুল দেখতে  পেলেই শোধরানোর না ভেবে  মনে করেন, “ থাবড়ানো দরকার ।”
আলটিমেটলি মানুষ চেঞ্জ হয় ।চেঞ্জ টুওয়ার্ড়স ফাইনাল ডেস্টিনেশান । ডেসটিনি কিংবা ডিভাইনিটি অনেকেই
মানেন না। আর মানেন না বলেই যা ইচ্ছে তাই করেন । করতেও বলেন । লাইফ ইজ নট লাইক দ্যাট
হোয়াট ইউ হ্যাফ থিঙ্ক অফ । ডু ইউ আন্ডাস্ট্যান্ড ?  বুঝলি। খাও দাও মস্তি করো।'

দুনিয়াটা মস্ত বড়।অথচ তারপরেও এই মস্ত বড় দুনিয়ায় কাউকে কাউকে আবার খুঁজে পাওয়া যায় ঠিক
একই লোকাল ট্রেনে । একই স্টেশনে । যারা ভাগ্যে বিশ্বাস করেন তারা বলেন,
'ও মা ! ভাগ্যে ছিল তাই ।' আর যারা ডেসটিনিতে বিশ্বাস রাখেন না,

'কোইনসিডেন্টিলি, বুজলিতো কাকতলীয় যাকে বলে ।'
ওহো কাকাতলীয় বলতেই একটা
ঘটনা মনে হল । দিন কাল যা পড়ছে ধর্ম আর ধর্মগ্রন্থ তো যাদুঘরের সাজিয়ে
রাখার মত  স্পেসিস হয়ে দাঁড়াচ্ছে । তাই আর যা ই হোক মসজিদ মুখো না হোলে আর ধর্মের কথা বের হয় না ।তো এমনই এক পরিস্থিতিতে
বন্ধুকে বললাম সূরা আম্বিয়ার কথা । বন্ধুটি এথেস্টি কিংবা থেয়িস্ট
কিচ্ছুনা । ও হল গিয়ে আপনার অ্যাগনষ্ট । যারা সৃষ্টি কর্তা আছেন কি না
নেই সেই ব্যাপারে কোনো কথা ই বলেন না । তো সেই বন্ধুকে সূরা অ্যাম্বিয়ার
৩০ নম্বর  আয়াতের কথা বললাম । যে গুলোতে বিগ ব্যাং থিয়োরির কথা উল্লে আছে ।
'বুলিতো উমুক, আজ থেকে চৌদ্দশো বছর আগেই কোরআনে বিগ ব্যাং থিওরির ব্যাপারে বলা আছে ।' আমি কথা গুলো যতটা বুক ফুলিয়ে বললাম বন্ধু

তার থেকে আরো বেশি মুখ গম্ভীর করে বলল, 'হয়তো কাকতলীয় ভাবে মিলে গেছে ।'
বোঝো ঠ্যালা ! মিললে কাকতলীয় আর না মিললে,
-' ধ্যাত তোদের বেসলে রিলিজিওন
! আমার একদম ভালো লাগে না । শুধু নামায পড়ো আর জান্নাত যাও । আর কিছু

লেখা আছে কি কোরআনে?'
-'হ্যা আছে আছে । আর হ্যা কোরআনে যতবার না আখেরাতের
কথা বলা হয়েছে তার থেকে বেশি দুনিয়ার...'

-'ভাই রাখ তোর ধর্ম, আই হ্যাভ টু
টক উইথ মাই জিএফ নাও...'

দে হ্যাভ দেয়ার অন ডিপ্লোমেসি

নো ওয়ান ইজ ফর নান নিজে বাঁচো নিজের জন্য বাঁচো বি অ্যা সেলফিস অ্যান্ড নাথিং এলস বুজলে? ইটস ট্রু! আমরা এখনো বাচ্চা উই হ্যাভান্ট এনি ফিলোসফি টু লিভ ইয়েট। বুজলে? বাচ্চা একটাদে হ্যাভ দেয়ার অন ডিপ্লোমেসি। দে হ্যাভ দেয়ার অন পলিটিকস
সব কিছু হোক অ্যারাবিকে নিন্দুকের ঠোট বাঁকিয়ে বলল, ইসলামিক রাস্ট্র কায়েমের পলিটিক অন্যদিকে শরীরের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঢুকে পড়ছে ইংরেজি আমরা হারিয়ে ফেলছি নিজস্ব সংস্কৃতি 

তারপরেও চোখে মোটাফ্রেমের রোদচশমা আর টি-শ্যার্টের কলারটা উচু করে দিয়ে বলছি, 'ইটস
অ্যা ফ্যাশান ব্রো...' হোক হোমো হোক যা ইচ্ছে তাই জীবন এখন পরোয়াহীন
অষ্টাদশী, খুলে দাও তোমার শার্টের বোতাম তুমি স্বাধীন ওড়ো খোলা আকাশে উড়যা চিড়িয়া ফুর... হোয়াট অ্যা ফিলোসপি স্যার জি? যা ইচ্ছে হোক

'ডোন্ট অভারটেক'এর সাইন বোর্ড খুলে নেওয়া হোক রাস্তা থেকে ট্রাফিক পুলিশ কেন থাকবে রাস্তায়? তুলে দাও সব কোথাও কিচ্ছু থাকবে নাওই যে বলে না স্লিপিং পুলিশ মানে ওই স্প্রিড ব্রোকার কিচ্ছু থাকবে না রাস্তায় কেন থাকবে বলো? থাকলে বাইকে চালকের স্বাধীনতা ক্ষুণ্য যে হচ্ছে তার বেলা ট্রাফিক রুলস ভাঙল বলে চালকের উপর রাগ করো তোমরা যে সব বুড়োখোয়া নিয়ম ভেঙে ভাগ করো তার বেলা? ভাঙছ বিশ্বাস , ভাঙছ রেওয়াজ ,
এলজিবিটির বাড়াবাড়ি তারবেলা?


যে রাতে চাঁদ আসত না আমাদের ছাদে

বছরের প্রথম বৃষ্টির
রাতে আমাদের ছাদে চাঁদ
থাকত না । রান্না ঘর থেকে
ঘামে ভেজা কপালে
ঘরে ঢুকতে তুমি ।
তোমার শরীর জুড়ে
পাঁচ ফোড়নদের মাতব্বরি ।
আমার ভালো লাগত ।
তোমাকে দেখে
হাসতাম । তুমি রেগে
যেতে । কষ্ট করে
ভেজে রাখা মাছ বিড়ালে
খেয়ে নিলে মানুষ
যেমন নিজের মাথায় আকাশ
ভাঙতে চাই ঠিক তেমন
ভাবে রাগতে তুমি ।
আরো রাগাতাম । রাগ
আরো বাড়লে দেয়ালে
ঠেসে ধরে গল্প বাড়ত
সুখের । কিভাবে গল্প বাড়ে ?
তোমার চোখ বন্ধ ।
হেলেন এসে পড়ত তোমার
রুপে । তুমি প্রচন্ড
উজ্জল । সুপারনোভা ।
কিন্তু তখনই বুঝতে পারতাম
মরে গেছে মাতব্বর পাঁচফোনড়রা ।
ঘর জুড়ে এখন শুধু
পোড়া তরকারীর গন্ধ !

রুমাল এবং বিড়ালের গল্প

ওমর খৈয়াম ঠুকরে খাচ্ছে কবিতা ।
দিজেন্দ্রলালের সুরে তাল
দিচ্ছেন রবীন্দ্রনাথ । স্বপ্নে
'পোয়েট্রি অফ ননসেন্স' আওড়াচ্ছেন
কালাম । চে গুয়েভারো
জন্মায়নি এমন একটা দেশের স্বপ্নে
হাঁটতে হাঁটতে
চেরাপুঞ্জীর চির শোকে কাদা

হয়ে যাওয়া লতা পাতা গুলো
এখন রুমাল এবং
বিড়ালের গল্প বলে । কবিরা
ন্যাকা ন্যাকা ভাষায় কবিতা
লেখে এমন
একটা দেশে, সভ্যতার
মা মাসি উদ্ধার করবেন বলে সাদা
পাঞ্জাবী পড়া নেতা
মঞ্চে উঠতেই ঘুম ভেঙে যায় আমার ।
সত্যি বলতে কি, কেউ কখনোই নিজের
খারাপ অবস্থা দেখতে পারে না স্বপ্নে...